থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রতিদিনের খাবারের দিকেও
নজর রাখা জরুরি। কারণ কিছু খাবার ও খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে
প্রভাব ফেলতে পারে এবং সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।তবে কোন খাবার এড়িয়ে
চলবেন, আর কোন খাবার পরিমিতভাবে খেতে পারবেন এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেরই রয়েছে নানা
ধরনের বিভ্রান্তি।
থাইরয়েডের সমস্যায় কোন খাবারগুলো থেকে সতর্ক থাকা উচিত, সেগুলো সম্পর্কে
বিস্তারিত জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, থাইরয়েডের সমস্যায়
কী কী খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং কোন কোন খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
থাইরয়েডের বিভিন্ন প্রকারভেদ ও তাদের লক্ষণসমূহ
থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থি
প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি হরমোন তৈরি করলে বিভিন্ন ধরনের থাইরয়েড সমস্যা
দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম ও গলগণ্ড
উল্লেখযোগ্য।
হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি,
দুর্বলতা, ওজন বেড়ে যাওয়া, ঠান্ডা বেশি লাগা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া ও
কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে হরমোনের
মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অস্থিরতা,
ঘুমের সমস্যা ও হাত কাঁপার মতো উপসর্গ হতে পারে।
এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে গলগণ্ড বা গলায় ফোলাভাব
দেখা দিতে পারে। অনেক সময় গলায় চাপ অনুভব, খাবার গিলতে বা শ্বাস নিতে অস্বস্তির
মতো সমস্যাও হতে পারে। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না,
তাই এসব উপসর্গ দেখা দিলে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
গুরুত্বপূর্ণ।
হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজমের মূল পার্থক্য
হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম দুটিই থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতার
কারণে হয়ে থাকে। তবে হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, আর
হাইপারথাইরয়েডিজমে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হরমোন তৈরি হয়। ফলে উভয় সমস্যার লক্ষণ
ও শরীরের ওপর প্রভাবও ভিন্ন হয়ে থাকে।
নিচে হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম এই দুইটির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা
হলো ।
| হাইপোথাইরয়েডিজম |
হাইপারথাইরয়েডিজম |
| থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে যায় |
থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন বেড়ে যায় |
| ওজন সাধারণত বেড়ে যেতে পারে |
ওজন সাধারণত কমে যেতে পারে |
| হৃদস্পন্দন ধীর হতে পারে |
হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে পারে |
| ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে |
অস্থিরতা ও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে |
| ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয় |
গরম ও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে |
| ত্বক শুষ্ক ও চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে |
চুল পাতলা হওয়া ও ত্বক আর্দ্র হতে পারে |
সবশেষে বলা যায়, দুটি সমস্যার মূল কারণ ও লক্ষণ একে অপরের থেকে বেশ ভিন্ন। তাই
শুধু উপসর্গ দেখে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
থাইরয়েডের সমস্যায় যে সব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
থাইরয়েডের সমস্যা হলে প্রতিদিনের খাবারের তালিকার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া
প্রয়োজন। কারণ হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হয়, আর
হাইপারথাইরয়েডিজমে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হরমোন তৈরি হয়। এই দুই ধরনের সমস্যায়
শরীরের প্রয়োজন ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়গুলোও কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে
আয়োডিনযুক্ত খাবার, সয়া জাতীয় খাবার এবং কিছু সবজি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার
ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। তাই থাইরয়েডের ধরন অনুযায়ী কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন
এবং কোন খাবার পরিমিত খাবেন, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হয়। এ অবস্থায় কাঁচা অবস্থায় অতিরিক্ত
পরিমাণে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, সরিষার শাক ও সয়া জাতীয় খাবার নিয়মিত বেশি
খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো, বিশেষ করে যদি আয়োডিনের ঘাটতি থাকে। তবে এসব খাবার
সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; পরিমিত ও রান্না করে খাওয়া সাধারণত বেশি
উপযোগী।
হাইপারথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, তাই অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত
খাবার ও আয়োডিন সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সামুদ্রিক শৈবাল বা অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত খাবার নিজের ইচ্ছায় বেশি খাওয়া উচিত
নয়। ক্যাফেইনযুক্ত চা, কফি ও এনার্জি ড্রিংকও অস্থিরতা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে
যাওয়ার মতো উপসর্গ বাড়াতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যায় সব খাবার একেবারে নিষিদ্ধএমন ধারণা ঠিক নয়। কোন খাবার কতটা
খাবেন, তা থাইরয়েডের ধরন, আয়োডিনের অবস্থা ও চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে পারে।
তাই নিজের ইচ্ছায় কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের
পরামর্শ নেওয়া ভালো। সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ
খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েড ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর প্রতিদিনের ডায়েট চার্ট
হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর
হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল,
স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে
অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে পরিমিত ও সুষম খাবারের
অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
সকালের নাশতায় ডিম, আটার রুটি বা ওটসের সঙ্গে পরিমিত ফল রাখা যেতে পারে।
দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটি, মাছ বা মুরগি, ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের রান্না করা
শাকসবজি রাখা যেতে পারে। বিকেলে ক্ষুধা লাগলে বাদাম, টকদই বা একটি ফল এবং রাতে
পরিমিত ভাত বা রুটির সঙ্গে মাছ, ডিম বা মুরগি ও সবজি খাওয়া যেতে পারে।
তবে হাইপোথাইরয়েডিজমের সবার জন্য একই ডায়েট চার্ট উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে
থাইরয়েডের ওষুধ সেবন করলে খাবারের সময় ও কিছু খাবার বা সাপ্লিমেন্টের ব্যবধান
গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী নিজের জন্য উপযুক্ত খাদ্যতালিকা তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো।
থাইরয়েড কমানোর কার্যকরী ঘরোয়া উপায়
থাইরয়েডের সমস্যা হলে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ে এটি কমানোর চেষ্টা করেন। তবে থাইরয়েড
হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করার কোনো নির্ভরযোগ্য ঘরোয়া চিকিৎসা নেই। থাইরয়েডের
ধরন ও হরমোনের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে, তাই প্রথমে সঠিক পরীক্ষা
করে সমস্যার কারণ জানা জরুরি।
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
কমানো এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত
ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিন বা অন্য কোনো
সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করে থাইরয়েডের
ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা
করানো এবং প্রয়োজন হলে নির্ধারিত ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ করাই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের
নিরাপদ উপায়।
থাইরয়েড টেস্টের বর্তমান খরচ ও নিয়ম
থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত করতে সাধারণত TSH পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী
চিকিৎসক T3, T4 বা Free T4 পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। পরীক্ষার ধরন ও
হাসপাতালভেদে এর খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে বাংলাদেশে থাইরয়েড
টেস্ট করতে প্রায় ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে থাইরয়েড পরীক্ষা করা যায়। সরকারি হাসপাতালে খরচ তুলনামূলক
কম হতে পারে, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষার জন্য কিছুটা বেশি খরচ হতে
পারে। আবার TSH-এর পাশাপাশি T3 ও T4 পরীক্ষা করালে মোট খরচ আরও বাড়তে পারে।
থাইরয়েড টেস্ট সাধারণত রক্তের নমুনার মাধ্যমে করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
বিশেষ কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। তবে আপনি যদি আগে থেকেই থাইরয়েডের ওষুধ
সেবন করেন বা অন্য কোনো পরীক্ষা একসঙ্গে করান, তাহলে পরীক্ষার আগে চিকিৎসক বা
সংশ্লিষ্ট ল্যাবের পরামর্শ নেওয়া ভালো। টেস্টের বর্তমান মূল্য ও রিপোর্ট পাওয়ার
সময় জানতে পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ
করে নেওয়া উচিত।
নারীদের থাইরয়েড সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ
থাইরয়েডের সমস্যা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে, তবে নারীদের মধ্যে এটি
তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী,
পুরুষদের তুলনায় নারীদের থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫ থেকে
৮ গুণ বেশি। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম ও কিছু অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ নারীদের
মধ্যে বেশি দেখা যায়।
নারীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, ওজন
বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম লাগার মতো পরিবর্তন দেখা
দিতে পারে। এছাড়া চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ঘাম বা
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও হতে পারে। তবে এসব লক্ষণ অন্য অনেক কারণেও
হতে পারে, তাই শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না।
নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়মিত বা অতিরিক্ত হওয়া এবং সন্তান ধারণে সমস্যা
হওয়ার মতো পরিবর্তনও থাইরয়েডের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন
ধরে এমন কোনো লক্ষণ থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন
অনুযায়ী TSHসহ থাইরয়েডের পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েডের জন্য আয়োডিন যুক্ত লবণ
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য শরীরে আয়োডিনের প্রয়োজন হয়। তাই আয়োডিনের ঘাটতি পূরণে
আয়োডিনযুক্ত লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যাদের খাদ্য থেকে
পর্যাপ্ত আয়োডিন পাওয়া যায় না। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ
করাও সবসময় উপকারী নয়।
দৈনন্দিন রান্নায় পরিমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। লবণ
কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত বা আয়োডিন সমৃদ্ধ লেখা আছে কি না এবং
প্যাকেটটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা ভালো। কারণ
দীর্ঘ সময় খোলা বা আর্দ্র জায়গায় রাখলে লবণের আয়োডিনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
তবে হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলেই অতিরিক্ত আয়োডিন খেতে হবে এমন
ধারণা ঠিক নয়। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট বা
অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে আয়োডিনের পরিমাণ ঠিক রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
জনপ্রিয় প্রশ্ন ও উত্তর
থাইরয়েড হলে কি কি ফল খাওয়া উচিত নয়?
থাইরয়েড রোগীদের জন্য কোনো ফল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, তবে কিছু ফল সীমিত
পরিমাণে বা সতর্কতার সাথে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে যেসব ফলে গইট্রোজেন
(Goitrogen) নামক উপাদান থাকে বা যেগুলো অতিরিক্ত মিষ্টি, সেগুলো পরিমিত
খাওয়া ভালো।
ডিম খেলে কি থাইরয়েড বাড়ে?
না, ডিম খেলে থাইরয়েড বাড়ে না; বরং পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া থাইরয়েড
গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে
থাইরয়েড হলে কি লেবু খাওয়া যায়?
হ্যাঁ, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পরিমিত পরিমাণে লেবু খাওয়া যায়। লেবুতে
থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড রোগীর জন্য কোন ধরনের খাবার ভালো?
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড রোগীর জন্য আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক এবং প্রোটিন
সমৃদ্ধ সুষম খাবার সবচেয়ে ভালো
বাংলাদেশে থাইরয়েড অপারেশনের খরচ কত?
বাংলাদেশে থাইরয়েড অপারেশনের খরচ সাধারণত সরকারি হাসপাতালে ২০,০০০ থেকে
৫০,০০০ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৮০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকার বেশি হয়ে
থাকে। তবে নির্দিষ্ট কোনো নির্ধারিত মূল্য নেই, কারণ খরচ নির্ভর করে
হাসপাতাল, সার্জারির ধরণ ও চিকিৎসকের ফি-এর ওপর।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
থাইরয়েডের সমস্যা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং হাইপোথাইরয়েডিজম ও
হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণও একে অপরের থেকে ভিন্ন। তাই নিজের লক্ষণ অনুযায়ী নিজে
থেকে ওষুধ বা খাবারের তালিকা পরিবর্তন না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সমস্যার
ধরন নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা তুলনামূলক
বেশি দেখা যেতে পারে, তাই অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম
বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণ দেখা দিলে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
থাইরয়েডের সমস্যায় খাবারের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত আয়োডিন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিছু
নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, তবে সব খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আয়োডিনযুক্ত লবণ পরিমিত ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া
আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি,
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দেওয়া ভালো। পাশাপাশি
থাইরয়েডের ওষুধ সেবন করলে তা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত গ্রহণ করতে
হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী TSH, T3 বা T4 পরীক্ষা করাতে হবে।
সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে শুধু ঘরোয়া উপায় বা খাবারের ওপর
নির্ভর করা উচিত নয়। সঠিক পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, নিয়মিত ওষুধ এবং
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—সবকিছুর সমন্বয়েই থাইরয়েডের সমস্যা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে
রাখা সম্ভব।
SAROWAR365- এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url